পোস্টগুলি

2016 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অবাধ্য সন্তান

ছবি
অবাধ্য সন্তান জাফর পাঠান মহাকাশসম আরেকটি মহাকাশ বিধাতা পেতেছে যেখানে, মার বুকের ঠিক মধ্যিখানে আমি যেতে পারিনি সেখানে। স্বার্থপরতার বুকে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিগন্তহীন মহাকাশের বুকে, আদরের সিংহাসন রেখেছিলো বিছিয়ে আমি যেতে পারিনি সেখানে, যদিও আমাকেই বসাতে চেয়েছিলো সেই আসনে। আমি দিয়েছিলাম পিঠ হয়েছিলাম নর্দমার কিট, যুগের অমাবশ্যায়-সময়ের ব্যস্ততায় হয়েছিলাম উন্নাসিক। বসতে পারিনি মার দেয়া আসনে, আমি যেতে পারিনি সেখানে। কতশত চেষ্টায় মা হয়েছে ঘর্মাক্ত করেছে অশ্রুপাত, করেছে শাসন-দিয়েছে বকা রুখতে পারেনি অধঃপাত। ছিলামনা পাপিষ্ট-করিনি কারো অনিষ্ট কি এক ঝড়ো হাওয়া ছিলো উপবিষ্ট। পেতে দেয়নি মার ছোঁয়া তবু ছিলোনা কমতি, মার দোয়া। ঠাঁই দিয়েছিলো বুকের ঠিক মধ্যিখানে কিন্তু আমি, যেতে পারিনি সেখানে। আমার বুকটা এখন বাঁধভাঙা নদী, ভেঙে চুরে দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে নিতি প্রতিশোধ নেয় আমার প্রতি। মার বুকে রাখা সেই সিংহাসনে, পারিনি আমি বসতে সেখানে।

দুখীদের কথা বলছি

ছবি
দুখীদের কথা বলছি জাফর পাঠান আমি আজ সেই দুখীদের কথা বলছি আকাশকে বানিয়েছে যারা চালা, বায়ুকে করেছে প্রাচীর মাটিকে বানিয়েছে বিছানা, গায়ের চামড়া যাদের পোশাক মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকা যাদের দাবি, সমাজে কেন নয় গ্রহণীয়, কেন কেতাবি? আমি সেই অনাহারীদের কথা বলছি- যাদের ছুটতে হয় ডাস্টবিনে নিত্য-জঠরজ্বালা যে আহারে যেতে হয় হাটে, ঘাটে, মাঠে অথবা কোন বাড়ির দুয়ারে, মৃত পশু পাখির সন্ধানে খাল বিলের ধারে, না পেলে থাকে নীরবে কুঁকড়িয়ে অনাহারে। আমি সেই দুর্ভাগাদের কথা বলছি যাদের অবুঝ শিশুরা কখনও স্বাদ নেয়নি গরুর দুধের পুষ্টিহীন ক্লিষ্ট মায়ের শুকনো বুকে দুধের জন্য থাকে মিশে, না পেয়ে নিস্পলকে রয় উপবাসে, ক্ষুধার যন্ত্রণা হাসে সৃষ্টির পরিহাসে। আমি সেই অভাবীদের কথা বলছি কপর্দকহীন মানুষ হিসাবে জন্ম নিয়েছে যারা এই ধরায় অর্থ বৈষম্যের তারতম্যে যারা হয় অজানা-অচেনা জীব, নেই অধিকার, বাচতে হবে-হয়ে নির্জীব, মরে পঁচে গেলেও- আমলাতন্ত্রে সজীব। আজ সেই অবহেলিতদের কথা বলছি রাষ্ট্রের প্রতিটি গঠনে যারা নিয়ত জীবনকে রাখে বাজি স্বাধীনতায় ঢেলে দিয়েছিলো রক্ত, নিজেদে...

ক্ষমা করে দিয়ো মোরে

ছবি
ক্ষমা করে দিয়ো মোরে জাফর পাঠান জনপদ কলুষিত আজ রক্ষক রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা আজ সমাজ কলুষিত-ভক্ষক সমাজপতি দ্বারা, মানুষ হয়েছে অনুভুতিশূন্য আজ-ভুগছে চরম হীনমন্যতায়, পড়ে থাকে অবলী নিরন্ন মানুষ দায়গ্রস্ততায়। দেখার যেন কেউ নেই-বুঝার কেউ নেই হারিয়ে ফেলেছে প্রতিবাদীরা ব্যক্তিত্বের খেই, সার্কাস প্রদর্শনীর যেন কুহকাচ্ছন্ন দর্শক-সাক্ষীগোপালের দল, প্যারালাইস আক্রান্ত হয়ে হারিয়ে ফেলেছে বল। ভোগে গা ভাসিয়ে আভিজাত্যের বড়াই! হই অঙ্গার, পুড়ে ছারখার, যেন তপ্ত রক্তিম কড়াই, মানুষ জানোয়ারদের নৃশংস হানায়, ভাসে জনপদ রক্ত বন্যায়, কহিবে কে? থাম্ এবার, এতো বড় অন্যায়। জন্মেছিস এ ধরায় ক্ষণজীবন নিয়ে রক্তমাখা টাকা কামাস শোষিতের রক্ত ঝরিয়ে, ভেবে দেখিসনা পঁচবি ধরার মাটিতে, জ্বলবি পাপের আগুনে ফেলে যাবি সব, কামিয়েছিস যা ভরা ফাগুনে। যেই টাকার নেশায় তুই হয়েছিস অমানুষ ভাবিসনি কখনও, এরাও অনুভূতিশীল মানুষ। যাকে তুই সোৎসাহে করেছিস হত্যা, সে ছিলো পরিবারের কর্তা, একজনকে নয়, তুই করেছিস পুরো পরিবারকে হত্যা। কালো টাকায় নিজকে করেছিস হৃষ্টপুষ্ট প্রতিটি রক্তাণু বহিব...